ঢাকা , রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ , ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন বছর সৌদিতে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরলেন মানিক

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৫-২২ ১৫:৪৩:০৪
তিন বছর সৌদিতে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরলেন মানিক তিন বছর সৌদিতে চিকিৎসাধীন থাকার পর দেশে ফিরলেন মানিক
নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফেনীর পরশুরাম থেকে ওমরাহ হজ পালনে সৌদি আরবে যান হেদায়েতুল ইসলাম মানিক (৬৫)। হজ পালনকালে হঠাৎ মদিনায় অসুস্থ হয়ে তিন বছর তিন মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় তাকে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।‎

‎তিনি পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মহেশপুষ্করণী গ্রামের বাসিন্দা। এলাকায় তিনি মানিক হুজুর নামে পরিচিত।

‎পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে এলাকার আরও কয়েকজনের সঙ্গে সৌদি আরব যান। মক্কায় ৮ দিন অবস্থান শেষে ৯ ফেব্রুয়ারি মদিনায় যান। ১২ ফেব্রুয়ারি ফজরের নামাজ আদায়ের সময় দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে ফ্লোরে পড়ে যান। মহান আল্লাহর মেহমান হিসেবে সৌদি আরব সরকার তাকে মদিনার কিং ফাহাদ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে দীর্ঘ ৪ থেকে ৫ মাস সিসিইউ ও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর তাকে মদিনার মুয়াসসাত হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এরপর টানা প্রায় ৩ বছর ৩ মাস তিনি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

‎বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় চলতি মাসের ১৩ তারিখে বিশেষ বিমানযোগ তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের নির্দেশনায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।‎

‎পরিবারের সদস্যরা জানান, একই সঙ্গে ওমরাহ করতে যাওয়া ব্যক্তিরা তাকে সেখানে চিকিৎসাধীন রেখে দেশে ফিরে আসেন। সৌদি আরবে থাকা আত্মীয়স্বজনদের সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিন বছর তিন মাস ধরে তিনি অচেতন অবস্থায় রয়েছেন। তাকে দেশে ফেরত নেওয়া সম্ভব নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে তার মেজো ছেলে আল শাহাদাত মো. হোসাইন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে তার বাবাকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আবেদন জানান। সেই পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি সরকারের সহযোগিতা, বাংলাদেশ হজ মিশন ও ধর্মমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়।

‎আল শাহাদাত মো. হোসাইন বলেন, দীর্ঘ সময় পর আমরা বাবাকে দেশে আনতে পেরেছি। এখন তিনি ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন আছেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি শোয়া অবস্থায় আছেন, মাঝে মাঝে চোখ খোলেন। তিনি বেঁচে আছেন এটাই আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, আমার বাবার সুস্থতার জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ